সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুটি ঘটনার প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১ঃ তাজরীন ফ্যাশনসের ভয়াবহ অগ্নিকান্ড যা কেড়ে নিয়েছে তরতাজা শতাধিক প্রাণ।
২ঃ চট্টগ্রামে ঊড়াল সেতুর অংশ বিশেষ ধ্বসে অপ্রত্যাশিত মৃতু্য।
১ নম্বর সমস্যা ও ২ নম্বর সমস্যার কারণ ও সমাধান একই, এই জন্য হাজার পাতার তদন্ত রিপোর্ট ও ঘন্টার পর ঘন্টা টক শো র প্রয়োজন নেই।আর সেটা হছে দুর্নীতি।
আজকে যে কারনে(ষড়যন্ত্র বা দূর্ঘটনা) আগুন লাগুক, সবচে বড় কথা হল এই আগুন লাগলে বাচার রাস্তা কি?
তার জন্য ভবন নির্মাণ, ফ্যাক্টরী নির্মাণের নীতিমালা আছে, পরিবেশ ছাড়পত্রের ব্যাপার আছে।
ইতিমধ্যে জানা গেছে এই সব নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় নাই, এই জন্য এই ভবন মালিক, ফ্যাক্টরীর মালিক দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল তা হলে তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। কিন্তু কথা হল এই দূর্নীতি সে কি সরকারি সেই সমস্ত অফিসারদের সহযোগিতা ছাড়া করেছে যারা এই কারখানা গুলোর অনুমোদন দেয়? সহজ উত্তর হল না।
এখন প্রশ্ন হল, যে সকল অফিসার সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে এই সব অবৈধ জিনিস বৈধ করে দিচ্ছে তাদের কি কোন দায় নাই ? আজকে তারা যদি এই জায়গায় তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করত তাহলে কি এই ঘটনা ঘটত? উত্তর না?
এর পর কথা হল ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর জরিমানা, মৃতু্য র বিষয়ে কি হওয়া উচিত তা কি আইনে স্পষ্ট আছে ? যদি থাকে তাহলে একজন শ্রমিকের মৃতুয় এর কারণে কি পরিমাণ জরিমানা কে কাকে দিতে হবে তা নিয়ে এক এক জন এক এক কথা বলছে কেন? কেন রাষ্ট্র এটা পরিষ্কার করে বলছে না? কেন মালিককে আইন এর আশ্রয়ে নিয়ে জিজ্ঞসাবাদ করছে না?
একই ভাবে ২ নম্বর সমস্যার ও সমাধান একই জায়গায়। কারা দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান কে কাজ পাইয়ে আজ জনগণের জান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে?
আবেগ দিয়ে বক্তৃতা দেওয়া যায়, দায়িত্বহীন দাবী তোলা যায়, কিন্তু সব কিছু চলা উচিত সুনির্দিষ্ট আইনে, তাহলে দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর শ্রমিক রা আন্দোলন করতে হতনা, দাবী আদায়ের জন্য জ্বালা পোড়াও কর্মসূচী দিতে হতনা, হীন্মন্য কিছু রাজনীতিবিদ নিজের শক্তি হিসেবে তাদের ব্যবহার করতে পারতনা।
আমি জানি আইন ও আইনের শাসন না থাকলে হাজার টক শো তেতো হয়ে যাবে,এন জি ও রা এই দেশ থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য মানবতার মুখোশ পড়ে এই দেশের ক্ষতি করে যাবে, সুবিধা বাদী সরকার গুলো তাদের অবৈধ স্বার্থ উদ্ধার এ ব্যস্ত থাকবে, আর অধিকার সম্পর্কে অসচেতন জনতা নির্যাতিত ই থেকে যাবে।।




