সূত্রঃ দিনবদলের স্লোগানধারী মহাজোট সরকারের তিন বছরই সারাদেশে ছাত্রলীগ ছিল বেসামাল ও সহিংস। খুন, হত্যা, ধর্ষণ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ইভটিজিং, দেহ ব্যবসা, শিক্ষক ও সাংবাদিক লাঞ্ছনা-নির্যাতন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, তাণ্ডবলীলা, ভর্তি বাণিজ্যসহ হেন কোনো অপকর্ম নেই যাতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

তিন বছরে সংঘর্ষ ও হামলায় আহত হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি। ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। ছোট-বড় সংঘর্ষ হয়েছে পাঁচ শতাধিক। ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছে ৮০ জন এবং সাংবাদিক একশ’। হাজার হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডাবাজি ও ভর্তির নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে বৈশাখী অনুষ্ঠান ও থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠানে অন্তত ২০ নারী ও ছাত্রী লাঞ্ছিত হন ছাত্রলীগের হাতে। বরিশাল বিএম কলেজের এক ছাত্রীর নগ্ন দৃশ্য এক ছাত্রলীগ কর্মী মোবাইলে ধারণ করায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে। ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল দিনে-দুপুরে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এক ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ২০১০ সালের ২ অক্টোবর বরিশালের মুলাদীতে ছাত্রলীগ কর্মীরা ধর্ষণ করেছে দুই বোনকে।
নিজ সংগঠন এবং এর বাইরে সুন্দরী মেয়েদের জোর করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসায় মনোরঞ্জনের জন্য পাঠানো হতো। আবার অনেকে দলে পদ পেতে নিজ ইচ্ছায় যেত। এছাড়া সরকারের মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী নেতা, ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনের জন্য দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের এমন অপকর্মে জড়িত থাকার নানা অভিযোগ পত্রপত্রিকায়ও খবর হয়।
এসব ঘটনা ছিল প্রায় নিত্যদিনের। অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের হাইকমান্ড একাধিকবার লোক দেখানো পরামর্শ, হুশিয়ারিই দিয়েছেন মাত্র। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। চলতি বছরটিও সংগঠনটির নানা অপকর্ম দিয়েই শুরু হয়েছে। বিস্তারিত →