সুত্র:
হস্পতিবার মাহিগঞ্জ পূর্ব খাসবাগ বালাটারি এলাকায় ফরিদ মিয়ার বাড়ির পাশে খোঁড়া ওই গর্তে মাটিচাপা পড়া অবস্থায় লাশগুলো পাওয়া যায়।
নিহতরা হলেন- ওই এলাকার সুন্দর আলীর ছেলে মনোয়ার হোসেন বাপ্পী (১৭), আজাদ মিয়ার ছেলে নূর ইসলাম লিমন (১৬) এবং বিরাজ উদ্দিনের ছেলে শাকিল (১৬)।
স্থানীয়রা জানায়, দুই মাস আগে এই তিন কিশোর এবং ফরিদ মিয়ার ছেলে রিপন মিলে এই গর্তটি খোঁড়ে। তারা সেখানে বসে রাতভর জুয়া খেলত এবং মাদক সেবন করত।

নিহতদের পরিবারের কথায়ও স্থানীয়দের এই বক্তব্যের সত্যতা মিলেছে। মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফওয়াজুল ইসলাম একই কথা জানান।
এসআই আফওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, “বুধবার রাতেও তিন কিশোর সেখানে জুয়া খেলতে ও মাদক সেবন করতে যায়। কোনো এক সময় গর্তের ওপরের মাটি চাপা পড়ে তিন জনই মারা যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, লাশের পাশে কাঁথা ও হিস্টাল সিরাপ পাওয়া গেছে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি রংপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত তিন কিশোরের বন্ধু রিপনের বোন রূপা বেগম সাংবাদিকদের জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে বাপ্পী, লিমন ও শাকিল তার ভাই রিপনকে ডাকতে আসে। তার বাবা বাড়িতে থাকায় রিপন বের হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রিপন ওই গর্তে গিয়ে তিন জনের লাশ দেখতে পায়। তারপর এলাকার সব মানুষ ছুটে যায় সেখানে।
তবে এরপর থেকেই রিপন নিখোঁজ বলে জানান তার বোন রূপা।
বাপ্পীর মা পেয়ারা বেগম বলেন, রাত ৯টার পর থেকেই তিনি ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
“প্রায় রাতেই সে ৯টার পর বাড়িতে থাকত না। ভোরে এসে বাড়িতে ঘুমাত,” বলেন তিনি।
বাপ্পী তাঁতীপাড়া মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। দুই মাস আগে সে মাদ্রাসায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল বলে জানান তার বাবা মাছ ব্যবসায়ী সুন্দর আলী।
শাকিল আফান উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। লিমনও শাকিলের সঙ্গে পড়ত।
ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই চার কিশোর পরস্পরের বন্ধু ছিল। তারা নিয়মিত জুয়া ও মাদক সেবন করত।