সূত্র: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভিয়েতনাম ও রাশিয়া সফর করেছেন। রাশিয়া বাংলাদেশকে আট হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় ঋণ দেবে। এই ঋণের অর্থ থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে সেনা ও বিমান বাহিনীর জন্য সমরাস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়ন আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ক্রিয়াশীল ও প্রভাবশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশে পররাষ্ট্র সফর অবশ্যই ইতিবাচক। তবে, পররাষ্ট্র সম্পর্ক নির্ধারণে দেশের জনগণের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। আর এ বিষয়গুলো আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান সরকার উপেক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্য শুধু আমাদের জনশক্তির বাজার নয়, আমাদেও ঔষধ ও সবব্জি রপ্তানির এক বিশাল বাজার। আমাদের ৯০ ভাগ জ্বালানি তেল ও পেট্রোলিয়াম আমদানি হয় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো থেকে। এছাড়া আমাদের দেশে কোনো প্রকার দাদাগিরি ছাড়া যে সকল নিঃশর্ত সাহায্য ও অনুদান বা দান আসে তা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে । আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (মসজিদ-মাদ্রাসা) লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা, বই-পুস্তক, খাদ্য ও অন্যান্য সুযোগ পায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাহায্য থেকে। ২০০৭ সালের বন্যার সময় আমরা দেখেছি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি নাগরিক বিশাল অঙ্কের দান করেছিলেন। আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, কী ছিল আমাদের প্রতি তার টানের উৎস! তিনি কী মুহম্মদ (স) এর এই বাণী উপলব্ধি করেছিলেনÑ“মুসলিম উম্মাহ একই শরীরের অংশ”।
মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে নতুন করে জনশক্তি রপ্তানি করতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বর্তমান সরকারের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী গত বছর ওআইসির সম্মেলনে গেলেন না। মুসলিমদেশ ও মুসলিমদের সংগঠনের প্রতি তার এতো বিতৃষ্ণা কেনো! অথচ এটি জাতিসংঘের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগঠন। রোহিঙ্গা সমস্যা সংশ্লিষ্ট দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের সঙ্গে এ ফোরামে আলোচনা করে রহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কার্যকর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেত।
জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ বিচারে মুসলিম বিশ্ব তথা মধ্যপ্রাচ্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের দাবিদার। কারণ, রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক উন্নয়নে প্রয়োজন দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন। সে ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের মানুষের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও মূলবোধ্যের মিল ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে ও করবে। বিস্তারিত →