Archive for: অগাষ্ট 13th, 2012

লন্ডনে ‘রোহিঙ্গা বিক্ষোভের’ মুখে শেখ হাসিনা

লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগ মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের পক্ষে বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার বিকালে প্রায় দুইশ লোক সেন্ট্রাল লন্ডনে হোটেল সেন্ট প্যানক্রাস রেনেসাঁর সামনে জড়ো হয়। মিয়ানমারে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় তারা।

পুষ্টি বিষয়ক আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডন যাওয়া প্রধানমন্ত্রী ওই হোটেলেই অবস্থান করছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ওই সম্মেলন শুরুর ঘণ্টা খানেক আগেই ওই বিক্ষোভ হয়।

গত জুন মাসে মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হলে রাখাইন প্রদেশ থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালায়।

তবে গত দুই যুগ ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করা বাংলাদেশ এবার রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দেয়নি।

জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করেই তাদের শরণার্থী হিসেবে না নিয়ে খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
বিস্তারিত →

‘বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলুন’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের উচিৎ, বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার বদলে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলা।

রোববার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল লন্ডনের হোটেল সেন্ট প্যানক্রাস রেনেসাঁয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দেওয়ায় লন্ডনে ওই হোটেলের সামনে বিক্ষোভ হয় এর কিছুক্ষণ আগে।

গত জুন মাসে মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হলে রাখাইন প্রদেশ থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালায়। তবে গত দুই যুগ ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করা বাংলাদেশ এবার রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দেয়নি।

জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করেই তাদের শরণার্থী হিসেবে না নিয়ে খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ মন্ত্রী মিচেলকে জানিয়েছেন যে, জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুই লাখ হাজারের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী শিবিরে এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।
বিস্তারিত →

নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু প্রবৃদ্ধির গতি কমাবে

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হলে স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন একজন অর্থনীতিবিদ, যিনি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করেছেন।

আবদুর রহিম চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মারকুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মতে, অন্য খাত থেকে তহবিল সরিয়ে পদ্মা সেতুতে দিলে ব্যাপক কৃচ্ছ্ব সাধনের প্রয়োজন পড়বে, আর তাতে পিছিয়ে পড়বে সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ৬ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও এই অর্জন সব খাতে সমানভাবে হচ্ছে না।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে ফিনিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গবেষক আবদুর রহিম চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গত দুই মাসে বাংলাদেশে খাদ্যের দাম কিছুটা কমে এলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে খরার কারণে বিশ্বজুড়ে খ্যাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে পারে।

“তাছাড়া কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমাদের জ্বালানি আমদানির ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিও ধীরে ধীরে বাড়বে”, বলেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান মুদ্রানীতি দেশের অর্থনীতির খুব একটা উপকারে আসছে না বলেও মত প্রকাশ করেন ইউরোপে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক কমিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আবদুর রহিম।

তিনি বলেন, “এই সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি টেনে ধরবে এবং আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা বাড়াবে।”

এই মুদ্রানীতি দিয়ে সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ করার প্রবণতার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সীমিত হয়ে আসবে। এতে করে ব্যাংক খাতে তারল্য সঙ্কট তৈরি হবে বলেও মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে বংলাদেশ ব্যাংকের আরো সতর্ক নীতি গ্রহণ করা উচিৎ। পাশাপাশি গার্মেন্ট শিল্পের মতো উৎপাদনমুখী খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো যেতে পারে।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও নিজের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক।

তিনি বলেন, যেহেতু প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ বিদেশি মুদ্রায় মেটাতে হবে, সেহেতু নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গেলে ডলারের বিপরীতে টাকা অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে।

তাছাড়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই অবকাঠামো নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি সুরাহা না হলে ঋণদাতারা অতি সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। আর সেক্ষেত্রে বিদেশি ঋণ প্রাবাহও কমে যাবে বলে সতর্ক করে দেন আবদুর রহিম চৌধুরী।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রবৃদ্ধির হার কতো হলো সেদিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বদলে আমাদের প্রবৃদ্ধির মান নিয়ে কাজ করা উচিৎ। এই প্রবৃদ্ধি হতে হবে সব খাতে সামগ্রিকভাবে, যাতে আরো বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে। একইসঙ্গে এই প্রবৃদ্ধিকে পরিবেশবান্ধবও হতে হবে।”
বিস্তারিত →