সূত্র:কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় সাড়া দিয়ে ‘কম’ প্রয়োজন এবং বিলাস সামগ্রী খাতে ঋণ না দিতে সম্মত হয়েছে ব্যাংকগুলো।বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংক নির্বাহীরা কথা দিয়েছেন, কোনো ধরনের অনুৎপাদনশীল খাতে তারা ঋণ দেবেন না। গাড়ি-বাড়ি কেনাসহ বিলাস সামগ্রী কেনা, এমনকি ফল, চিপস, বিস্কুট, প্রসাধন সামগ্রী আমদানিতেও তারা ঋণ প্রবাহ কমিয়ে দেবেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি)
বৈঠক শেষে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, “মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের ঋণ প্রবাহ কমাতে বলেছে। আমরা কথা দিয়েছি, ব্যাংকগুলো এখন থেকে শুধু উৎপাদনশীল খাতেই ঋণ দেবে।”
“যে সব খাতে কর্মসংস্থান হবে, কেবল সেসব খাতেই আমরা ঋণ দেব। অনুৎপাদনশীল খাতে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের ঋণ দেওয়া হবে না”, যোগ করেন তিনি।
কোন কোন খাতকে ‘অনুৎপাদনশীল’ বিবেচনা করা হবে জানতে চাইলে নুরুল আমিন বলেন, “উৎপাদনশীল খাত বলতে আমরা (ব্যাংকাররা) রিয়েল সেক্টরকে বোঝাচ্ছি। যে সেক্টর থেকে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) বিশেষ অবদান রাখবে- এ ধরনের খাতকেই বোঝানো হচ্ছে।”
নুরুল আমিন বলেন, “বিভিন্ন ধরনের ফল, বিস্কুট, চিপস, কসমেটিকস আমদানি করা খুব বেশি জরুরি নয়। এ ধরনের পণ্য আমদানিতে মোটা অংকের বৈদেশিক মুদ্রা চলে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে একমত পোষণ করে আমরা এ সব পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলা নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
“এই মুহূর্তে দরকার নেই- এমন খাতে ঋণ দেওয়া থেকে আমরা বিরত থাকবো,” যোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারি-জুন মেয়াদের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে মূল্যস্ফীতি কমাতে বেসরকারি ঋণ প্রবাহ ১৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়টির উল্লেখ করে নুরুল আমিন বলেন, “আজকের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমাদের সে বিষয়টিই অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা তা মানবো বলে কথা দিয়েছি।”
ব্যাংক খাতে সঙ্কট চলছে কি না জানতে চাইলে এবিবি প্রধান বলেন, “সংকট নেই। তবে টানাপোড়েন, চাপ আছে। কিছু কিছু ব্যাংকের নগদ টাকার সংকট আছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বেঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, “জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্য বহির্ভুত খাতে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। সেটা বাস্তবায়নের জন্যই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমাতে বাড়ি-গাড়িসহ বিলাস দ্রব্যে ঋণ না দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বাংলাদেশে কার্যরত সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা এ বৈঠকে অংশ নেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এর মধ্যে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ; খাদ্য বহির্ভুত খাতে ছিল ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।








