সূত্র:
মিয়ানমারে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেবে না বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আকস্মিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “এটা আমাদের স্বার্থ নয় যে, মিয়ানমার থেকে নতুন করে শরনার্থী আসুক।”
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানানোর খবরের প্রেক্ষিতে এ কথা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে ইউএনএইচসিআর থেকে এ ধরণের কোনো আহ্বান আসেনি বলে দাবি করেন দীপু মনি।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছিল, মিয়ানমারে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নতুন করে অনুপ্রবেশ না করতে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক শরনার্থী আছে। অবৈধভাবেও অনেকে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব এমনিতেই বেশি। মিয়ানমারের শরনার্থীদের অনুপ্রবেশের ফলে সামাজিক, পরিবেশগত ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়ে।”
বাংলাদেশের মিয়ানমারের যেসব শরনার্থী আছে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে উল্টো আলোচনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ উদ্বেগের কারণ আছে কিনা জানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, “উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশি দেশ। সেখানে কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আমাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়ায়।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাস প্রধানের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মহা পরিচালক আলোচনা করেছেন। মিয়ানমারে বাংলাদেশের দূতাবাসও সে দেশের কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছে।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সীমান্তে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক রাখার কথা বলেছে।
রাখাইন প্রদেশের মংডু জেলায় ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনদের মধ্যে শুক্রবার দাঙ্গা শুরু হয়। এ সহিংসতার জের ধরে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করার সময় সোমবার রোহিঙ্গাদের নৌকা ফিরিয়ে দেয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
প্রায় দুই দশক আগে থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখনো প্রায় ২৫ হাজার নাগরিক টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও অনেকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও তথ্য রয়েছে।









মুসলিম দেশের মন্ত্রী হিসেবে কোন জোরালো প্রতিবাদ তো করছিইনা, উপরন্তু নিপীড়িত মানুষ কে আরো দূরে ঠেলে দিছি