মানিকগঞ্জ লামা ও পবায় দুই মাদ্রাসা ছাত্রসহ চার শিক্ষার্থী অপহৃত : এখনও উদ্ধার হয়নি দু’বোনসহ চার ছাত্রছাত্রী

সূত্রঃ মানিকগঞ্জে দুই মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। অপহরণকারীরা ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। বান্দরবানের লামা ও রাজশাহীর পবায় দুই স্কুল ও কলেজছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে।
অপহৃত বান্দরবানের লামায় উক্যচিং মার্মানী
এদিকে পাবনার সুজানগরে অপহরণের ৬ দিন পরও উদ্ধার হয়নি স্কুলপড়ুয়া দুই বোন।কুমিল্লার লাকসামে ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি কলেজছাত্রী লুবনা। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অপহৃত অন্য স্কুলছাত্রীক দু’দিনেও উদ্ধার করা হয়নি।


মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার মোহাম্মদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই মাদ্রাসাছাত্র অপহৃত হয়েছে। অপহরণকারীরা ফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ব্যাপারে অপহৃত দুজনের বাবা সাটুরিয়া থানায় জিডি করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার কোরআন শিক্ষা বিভাগের ছাত্র মোস্তফা নাজমুল আনছারী (১৪) ও মুজাহিদ সালমান (১৩) রোববার সকালে নাশতা খাওয়ার জন্য মাদ্রাসা থেকে বের হয়। এরপর তারা আর ফিরে আসেনি। রোববার রাতে ও কাল সকালে দু’দফায় অপহৃত নাজমুলের বাবা স্কুলশিক্ষক মোজাম্মেল হক আনছারী, তার বোন চাঁদ সুলতানা এবং মুজাহিদ সালমানের বাবা তোফাজ্জেল হোসেনের মোবাইল ফোনে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

এ সময় অপহরণকারীরা অপহৃত দুই ছাত্রের সঙ্গে পরিবারের লোকদের কথা বলিয়ে দেয়।মুজাহিদ সালমানের বাবা জানান, মোবাইল ফোনে তার ছেলে জানিয়েছে, তাদের একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে অপহরণকারীরা।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু তাহের মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
লামা (বান্দরবান) : বান্দরবানের লামায় উক্যচিং মার্মানী (১৪) নামের এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সে লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী এবং রূপসীপাড়া ইউনিয়নের চহ্লাখইন হেডম্যান পাড়ার ক্যথুই মার্মার মেয়ে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাড়ার পার্শ্ববর্তী মো. শফি আলমের ছেলে মো. জাফর আলম কয়েক সহযোগী নিয়ে উক্যচিংকে তার বাড়ি থেকে অহপরণ করে নিয়ে যায়।

এ অপহৃতার বাবা ক্যথুই মার্মা একই এলাকার ৯ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অপহরণে সহায়তার অভিযোগে রেনু আরা বেগম (৩০) নামের একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে বান্দরবান কারাগারে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত মো. জাফর আলমের পরিবারের লোকজন দাবি করেছেন, উক্যচিংয়ের সঙ্গে মো. জাফর আলমের দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলে আসছিল। তারা উভয়ে পালিয়ে গেছে। তাকে অপহরণ করা হয়নি। লামা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হোছাইন জানিয়েছেন, অপহৃতকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পবা (রাজশাহী) : পবার নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্রী আঁখিকে অপহরণ করেছে কয়েক বখাটে। এ ব্যাপারে পবা থানায় একটি মামলা হয়েছে। এদিকে অপহরণের এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টার দিকে পবার বড়গাছি হাটপাড়ার সৌদি প্রবাসী ফজলুর রহমানের মেয়ে ফারহানা আখতার আঁখি (১৫) কলেজে প্রবেশের আগ মুহূর্তে সাঁকোপাড়ার আজাদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২০) সহযোগীদের নিয়ে আঁখিকে অপহরণ করে।

আঁখির ভাই মেহেদী হাসান সাদ্দামসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে পবা থানায় মামলা দায়ের করেন।

সুজানগর (পাবনা) : পাবনা সুজানগরের ঘোড়াদহ গ্রামে স্কুলপড়ুয়া অপহৃত দুই বোন শিউলী খাতুন (১৩) ও আন্না খাতুন (১০) অপহরণের ৬ দিন পরও উদ্ধার হয়নি। শিউলী উপজেলার জাহানারা কাঞ্চন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী এবং আন্না ঘোড়দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। তারা গ্রামের দুলাল বিশ্বাসের মেয়ে।

বুধবার সকাল ১০টার সময় শিউলী ও আন্না স্কুলে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ৫/৭ জন তাদের অপহরণ করে মাইক্রোবাসযোগ পালিয়ে যায়।
পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও অপহরণকারীদের গ্রেফতার কিংবা অপহৃত শিউলী ও আন্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।

লাকসাম (কুমিল্লা) : লাকসাম পৌর শহরের মধ্য লাকসামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির মির্জার মেয়ে লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তানজিনা আফরিন লুবনা (১৮) অপহরণের ২১ দিন পার হলেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। প্রাইভেট পড়তে পশ্চিমগাঁও প্রফেসর কলোনিতে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে সন্ত্রাসীরা লুবনার মুখে কাপড় বেঁধে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউপির ইরুয়াইন গ্রামের আবদুস ছাত্তারের ছেলে মো. ইসহাক তার ভাই সাহাদাত হোসেন মিলন, গাইনের ডহরা গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে মকবুল মিয়া, ইরুয়াইন গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে শাহ পরান, মিন্টু মিয়ার স্ত্রী খালেদা আক্তার, শাহাদাত হোসেন মিলনের স্ত্রী জোত্স্না বেগম ও মকবুল মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগমের সহযোগিতায় কলেজছাত্রী লুবনাকে ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় বাসার সামনে রাস্তা থেকে অপহরণ করা হয়।

অপহরণের ২১ দিন পার হলেও লুবনা এখনও উদ্ধার হয়নি। এ ব্যাপারে লাকসাম থানায় নারী নির্যাতন ও অপহরণ আইনে মামলা হয়েছে।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের হারুনুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সজীব (১২) অপহরণের দু’দিন পারও হলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাবলু নামের এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।পুলিশ জানায়, উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব একলাশপুর গ্রামের সজীব রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত মুক্তিপণের দাবিতে তাকে অপহরণ করে।

এদিকে পুলিশ অপহৃত স্কুলছাত্র সজীবকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি। সজীবের বাবা হুমায়ুন কবির আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার ছেলেকে অপহরণকারীরা কোনো পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি এ জন্য পুলিশের সঠিক তদন্ত দাবি করেন।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

One comment on “মানিকগঞ্জ লামা ও পবায় দুই মাদ্রাসা ছাত্রসহ চার শিক্ষার্থী অপহৃত : এখনও উদ্ধার হয়নি দু’বোনসহ চার ছাত্রছাত্রী

Leave a Reply