ইয়েমেনে বিরোধীদের ওপর পুলিশের গুলি, নিহত ৭

সূত্র: ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে দেশটিতে এক স্কুলছাত্রসহ সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১০০ জনেরও বেশি।

সাতজনের মধ্যে পাঁচজন মারা যায় গত শনিবার। আহত বাকি দুজন গতকাল মারা যায়। বিক্ষোভ দমনে গতকাল পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর সাধারণ কাঁদানে গ্যাসের পরিবর্তে বিষাক্ত গ্যাস ছুড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে।

গতকালও দেশটিতে ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিরোধীদের ওপর দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘ।

মধ্যপ্রাচ্যে আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর পদত্যাগ, নির্বাচন, পার্লামেন্ট ও বিচারব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র নিহত হওয়ার পর আন্দোলন আরো জোরদার হয়। ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে সালেহ ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন।

শনিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের প্রথম হামলা হয় সানা বিশ্ববিদ্যালয়ে। গুলিতে সেখানে একজন মারা যায়। সানায় চিকিৎসকরা জানান, শনিবার সানায় বিক্ষোভকারীদের অস্থায়ী শিবিরে পুলিশ অভিযান চালায়। একপর্যায়ে তারা গুলি শুরু করে।

এতে ৩০ জনেরও বেশি গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া টিয়ার শেলের আঘাতে আহত হয় আরো ১০০ জনেরও বেশি। বিরোধী দলের এক সদস্য জানান, শনিবার আড়াল থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ।

এতে একজন মারা যায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মুকালায় অন্য এক বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। শনিবার পুলিশের গুলিতে একজনের মৃত্যুর পর বিক্ষোভকারীরা দক্ষিণাঞ্চলীয় পোর্ট অব এডেন শহরে একটি থানায় হামলা চালায়। তারা আগুন লাগিয়ে দিলে পুলিশ গুলি করে। এতে আরো একজন নিহত হয়। শনিবারের হামলায় আহত দুই বিক্ষোভকারী গতকাল মারা যায়।

সানায় বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছে, পুলিশ তাদের ওপর বিষাক্ত গ্যাস ছুড়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইরাকি এক চিকিৎসক হুসেইন আল জোসাই বলেন, ‘এই গ্যাস মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দেয়। মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়।’

আবদুল ওয়াহাব আল ইনসি নামের আরেক চিকিৎসক বলেন, ‘কাঁদানে গ্যাসের বদলে অন্য কোনো গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের শরীরে খিঁচুনি দেখা দিয়েছে।’ তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ব্রিটেন, ইইউ ও জাতিসংঘের নিন্দা
বিরোধীদের ওপর দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটেন, ইইউ ও জাতিসংঘ।

ইইউয়ের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাস্টন দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা হতাহত হয়েছে তাদের জন্য আমি সত্যিই মর্মাহত।
‘ বিরোধীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের রক্ষার যে অঙ্গীকার দুদিন আগে সালেহর সরকার করেছে তা রক্ষা করার জন্য অ্যাস্টন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিরোধীদের ওপর সরকারের অতিরিক্ত কঠোর হওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, ‘সানায় যে সহিংসতা চলছে তা অগ্রহণযোগ্য। আমি এ ঘটনায় মর্মাহত।’ সূত্র : এএফপি।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

Leave a Reply