সূত্র:বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ১/১১- পরিস্থিতির জন্য পশ্চিমা কূটনীতিকদের দায়ী মনে করা হলেও তা সঠিক নয়। এর জন্য দায়ী দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ফ্রোয়েন এ দাবি করেন। তার এ দাবির ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা।
- জরুরি অবস্থা জারির জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করে ফ্রোয়েন বলেন, আমরা জরুরি অবস্থা সমর্থন করি না। কিছু রাজনৈতিক দলই জরুরি অবস্থা ডেকে এনেছিলো
- দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কূটনীতিকদের কোন ধরনের মতামত দেয়ার অধিকার না থাকলেও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দারস্থ হওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও করেন আসাফ-উদ-দ্দৌলা।
- কূটনীতিকরা যে এর পেছনে দায়ী ছিল তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে ওয়ান ইলেভেনের আগে ইউএনডিপির তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধির চিঠি জালিয়াতি, টুইসডে গ্রুপের নানামুখী কর্মকাণ্ডসহ কূটনীতিকদের বিভিন্ন বক্তব্য প্রমাণ করে তারা ঐ পরিস্থিতির সাথে জড়িত ছিল।
ফ্রোয়েন বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের জন্য কূটনীতিকদের দায়ী করা সম্পূর্ণ অর্থহীন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত কিংবা বাইরের কোনো দেশই এর জন্য দায়ী ছিলো না। জরুরি অবস্থা জারির জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করে ফ্রোয়েন বলেন, আমরা জরুরি অবস্থা সমর্থন করি না। কিছু রাজনৈতিক দলই জরুরি অবস্থা ডেকে এনেছিলো। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা ঠিকভাবে চলে, তাহলে এটা হয়তো ভবিষ্যতে আর নাও ঘটতে পারে।
স্টিফেন ফ্রোয়েনের এ বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন দেশের সাবেক সচিব আসাফ-উদ-দ্দৌলা। তিনি মনে করেন, ওয়ান ইলেভেনের জন্য কূটনীতিকরা নয়, দেশের সে সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এর জন্য দায়ী। দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে কূটনীতিকদের কোন ধরনের মতামত দেয়ার অধিকার না থাকলেও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দারস্থ হওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও করেন আসাফ-উদ-দ্দৌলা।
তবে ওয়ান ইলেভেনের জন্য কূটনীতিকরাই দায়ী বলে মনে করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, কূটনীতিকরা যে এর পেছনে দায়ী ছিল তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে ওয়ান ইলেভেনের আগে ইউএনডিপির তৎকালীন আবাসিক প্রতিনিধির চিঠি জালিয়াতি, টুইসডে গ্রুপের নানামুখী কর্মকাণ্ডসহ কূটনীতিকদের বিভিন্ন বক্তব্য প্রমাণ করে তারা ঐ পরিস্থিতির সাথে জড়িত ছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা তারা পছন্দ করছে না, তাই তারা নিজেদের সংশ্লিষ্টার দায় অস্বীকার করছেন। শক্তিশালী দেশগুলো সব সময় ছোট দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে উল্লেখ করে এ কথা তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দায় স্বীকারের মধ্যে কোন লজ্জা নেই। তাই দায় স্বীকার করে, আগামী দিনে বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে ভূমিকা রাখারও আহবান জানান ফরহাদ মজহার।








