সূত্র:ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি মঙ্গলবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আস্থা ভোটে স্বল্প ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পরপরই রোমের রাস্তায় রাস্তায় দাঙ্গা বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।মাত্র তিন ভোটের ব্যবধানে বারলুসকোনির এ জয় তার বিরোধীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
হাজার হাজার মানুষ রোমের রাস্তায় রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন রোমের রাস্তায় গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।এছাড়া রাস্তার পাশের ডাস্টবিনগুলো উল্টে ফেলে দেয় ও পুলিশের প্রতি পাথর, ডিম ও রং নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা।
বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এছাড়া বিস্ফোরণেরও শব্দ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে ৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১০০ বিক্ষোভকারী আহত হন। এদিকে রোমের মেয়র বলেন, সত্তর দশকের পর এমন দাঙ্গা ইতালি আর দেখেনি।
সমালোচকেরা বারলুসকোনির বিরুদ্ধে আকণ্ঠ কেলেঙ্কারিতে নিমজ্জিত ও তার কার্যালয় ঘিরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। রোম ছাড়াও ইতালির অন্যান্য প্রধান শহর পালার্মো, ভেনিস ও তুরিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
সিসিলি অঞ্চলের রাজধানী পালার্মোর পাঁচশ বিক্ষুব্ধ ছাত্র প্রধান বিমান বন্দরের রানওয়ে দখল করে নেয়, ওদিকে তুরিনের ছাত্ররা রেলওয়ে স্টেশন দখল করে আর ভেনিসের বিক্ষোভকারীরা শহরের বিখ্যাত রিয়ালতো ব্রিজ দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
৭৪ বছর বয়স্ক ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী তার পাঁচ বছর মেয়াদকালের অর্ধেক সময় পার করেছেন কিন্তু ধারাবাহিক নারী সম্পর্কিত কেলেঙ্কারির কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। জয়ের পরও হুমকির মুখে রয়েছে বারলুসকোনি সরকারের ভবিষ্যত্।
কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কম থাকার কারণে তার পক্ষে পার্লামেন্টে আইন পাস করা কঠিন হবে। বছরজুড়ে অন্তর্দলীয় কোন্দল, দুর্নীতি ও নারীবিষয়ক কেলেঙ্কারিতে বারলুসকোনির নেতৃত্বে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
অতি সম্প্রতি ইতালির নেপলস-এ ময়লা ফেলা নিয়ে আরেক কেলেঙ্কারিতে সরকার দুর্বল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আস্থা ভোটের ডাক দেয়। আস্থা ভোটে হেরে গেলে বারলুসকোনি পদত্যাগের মুখে পড়ার পাশাপাশি দেশে আগাম নির্বাচনের পট প্রস্তুত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
বারলুসকোনির বিরুদ্ধে গত বেশ কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ হচ্ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বেকার আর হতাশাগ্রস্ত মানুষই এসব বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছিলেন। ইতালির বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটা পছন্দ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে।
কারণ, তার জোট সরকারের অন্যতম শরিক দলের প্রধান জ্যানফ্রাঙ্কো ফিনি ৪০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে হঠাত্ করে জোট ছেড়ে বেরিয়ে যান। মূলত দুটি কারণে ফিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এক. বারলুসকোনির দুর্নীতি আর দুই তাঁর ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল। বিক্ষোভে অংশ নেয়া আন্দ্রেয়া নামের একজন বলেছেন, বারলুসকোনির ব্যক্তিগত জীবন তাকে দেশের জন্য ভালো কিছু করা থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। আর স্কুল শিক্ষক সিলভিয়া বলছেন যে, ইতালিতে তরুণ সমাজের কোনো ভবিষ্যত্ নেই।
বারলুসকোনি তার ১৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এতবড় পরীক্ষার সামনে আর পড়েনি। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, অনেকেই মনে করেছিলেন মঙ্গলবারই বুঝি তার ক্ষমতার শেষদিন। কিন্তু দেখা গেল তিনি সেটা উতরে গেলেন। মাত্র তিন ভোটের ব্যবধান ছিল।
সংসদের উচ্চকক্ষে বারলুসকোনি যে জিতবেন সেটা ধরেই নেয়া হয়েছিল। কিন্তু নিম্নকক্ষে একটা অঘটনের আশা করছিলেন সবাই। সেখানেই দেখা গেল ৬৩০ সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৩১৪ জন ভোট দিয়েছে তার পক্ষে। আর বিপক্ষে ভোটের সংখ্যা ৩১১টি। তিনজন সংসদ সদস্য ভোট দানে বিরত থাকেন।









