‘বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলুন’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের উচিৎ, বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার বদলে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলা।

রোববার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল লন্ডনের হোটেল সেন্ট প্যানক্রাস রেনেসাঁয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঢুকতে না দেওয়ায় লন্ডনে ওই হোটেলের সামনে বিক্ষোভ হয় এর কিছুক্ষণ আগে।

গত জুন মাসে মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা শুরু হলে রাখাইন প্রদেশ থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালায়। তবে গত দুই যুগ ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করা বাংলাদেশ এবার রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দেয়নি।

জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করেই তাদের শরণার্থী হিসেবে না নিয়ে খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ মন্ত্রী মিচেলকে জানিয়েছেন যে, জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুই লাখ হাজারের বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। কক্সবাজারে দুটি শরণার্থী শিবিরে এসব রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।

মিয়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ফেরত পাঠানোর আগে বাংলাদেশ সরকার তাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং এমনকি অর্থ সহায়তাও দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্রিটিশ সহায়তার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামেও’ যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ সরকারকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকাররের সাফল্যের প্রশংসা করেন ব্রিটিশমন্ত্রী মিচেল।

শোকের মাস অগাস্টে পুষ্টি বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডন যাওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এবং সম্মেলনের বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হওয়ায় তিনি এতে যোগ দিয়েছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পুষ্টি বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেনিয়া, ভারত ও ব্রাজিলের রাজনীতিকরা অংশ নিয়েছেন। কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে, চলতি অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী সোমালিয়া বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অ্যাথলেট মো ফারাহসহ কয়েকজন ক্রীড়াবিদও সম্মেলনে ছিলেন।

সাক্ষাতের সময় অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

Leave a Reply