২০১৩-’১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি’র জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

সুত্র:  যেসব প্রকল্প চলতি অর্থ-বছর শেষ করা যাবে, তা আগামী বছরের জন্য ফেলে না রাখার নির্দেশ দিযেছেন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

adp

বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন যাতে সঠিক ও দ্রুততার সাথে হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

 

সভায় জানানো হয়, এ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার ৩৮ শতাংশ।বৈঠকে ২০১৩-’১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি’র জন্য ৬০ হাজার কোটি  টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

বরাদ্দকৃত এ অর্থ  গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা বেশি। এ অর্থবছরে এক হাজার ২৫৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংশোধিত এডিপিতে এ বরাদ্দ দেয়া হলো।

২০১৩-’১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত মোট ১২৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২০২টি প্রকল্প নতুন অনুমোদিত। এই ১২৫৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১০৪৯টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৭৪টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৩১টি জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প। নতুন অনুমোদিত ২০২টি প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১৪৯টি। বাকি ৪৩টির মধ্যে ৪২টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং একটি জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প। এ বছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দবিহীবভাদে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন ৫৫৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

এছাড়া, সংশোধিত  এডিপিতে বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দ ব্যকিতেরেকে প্রতিফলিত ৩০৪টি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেয়া হয়। এ অর্থবছরে ২৩৬টি প্রকল্প সমাপ্ত হবে বলেও সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ ২০১৩-’১৪ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির কোন উন্নয়ন সহায়তা খাতে এবং কোন সেক্টর/প্রকল্পের অব্যয়িত সাশ্রয়যোগ্য অর্থ থাকলে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ওই অর্থ একই সেক্টরভুক্ত অথবা আন্তঃসেক্টরের মধ্যে যেকোন প্রকল্পের অনুকূলে পুনঃনির্ধারণ/পুনঃবরাদ্দের এখতিয়ার রাখবে।

বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে আরএডিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, অপরাধ দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার ইত্যাদি বিষয়ের উপর এ বছরের আরএডিপিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, পদ্মা সেতুর টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা হবে না। এ খাতের টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। এ সময় তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েনি। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

মন্তব্য করুন