সূত্র: সিরিয়াজুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে লড়াই। সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির মুখেও আলেপ্পোসহ অন্যান্য শহরে তীব্র লড়াই ছড়িয়ে পড়ছে।
আলেপ্পোয় বিদ্রোহী অবস্থানগুলোতে গোলা হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। রাজধানী দামেস্ক এবং হোমস শহরেও বক্তক্ষয়ের খবর পাওয়া গেছে।
সেনারা আলে্েপ্পা ঘিরে আরো শক্তিশালী অবস্থান নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।
সরকারি বাহিনী গত দু’সপ্তাহ ধরে আলেপ্পোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
কিন্তু বিদ্রোহীরা এখনো এ শহরে শক্ত অবস্থান ধরে রাখার দাবি করেছে। বিদ্রাহী ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’ (এফএসএ) শুক্রবার জানিয়েছে, আলে্েপ্পার ৫০ শতাংশেরও বেশি এলাকা তাদের দখলে রয়েছে।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে আলে্েপ্পাসহ সিরিয়াজুড়ে সহিংসতায় ১৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলনকর্মীরা।
আরো কয়েকটি শহরে তুমুল লড়াই চলার কথা জানিয়েছে সরকারবিরোধী পক্ষের কয়েকটি সূত্র।
জাতিসংঘ-আরব লিগ শান্তি দূত কফি আনানের পদত্যাগ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ এ সহিংসতার খবর এসেছে। সিরিয়া সংঘাতে শান্তিপ্রচেষ্টায় মধস্থতাকারীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ থেকেই তা স্পষ্ট।
শান্তি পরিকল্পনা সিরিয়ায় রক্তক্ষয় বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশ কফি আনান বৃহস্পতিবার শান্তিদূতের পদে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
তিনি বলেন, সিরিয়ায় সহিংসতা বাড়তে থাকায় তার কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া, এ সঙ্কটে যে ধরনের সহযোগিতা পাওয়া উচিত ছিল তা তিনি পাননি বলে অভিযোগ করেন।
আনান বলেন, একদিকে, সিরিয়াজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, অস্ত্রের ঝনঝনানি আর অন্যদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবনা অনুমোদনে অনৈক্যের কারণে তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে।
আনানের পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ায় সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে এবং সংঘাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার সমালোচনা করে আনা একটি প্রস্তাবনায় শুক্রবার ভোটাভুটিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।
এ প্রস্তাবে আইনগত কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ না হলেও এতে করে সিরিয়া সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ আরো বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবনায় সিরিয়ার দামেস্ক এবং আলেপ্পোয় ট্যাংক, গোলা, হেলিকপ্টার ও জঙ্গিবিমান হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে।
১৯৩-সদস্যের সাধারণ পরিষদে এ প্রস্তাবনা সহজেই পাশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া বিরোধী প্রস্তাবনায় তিনবার ভেটো দেওয়া দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার এ প্রস্তবনায়ও ভেটো দেওয়ার আশঙ্কা আছে।









