লেবাননের নিহত গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাফন রোববার

সূত্র: ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলায় নিহত লেবাননের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা উয়িসাম আল হাসানের শেষকৃত্য রোববার অনুষ্ঠিত হবে। শেষকৃত্যে ব্যাপক লোকজমায়েতের ডাক দিয়েছে লেবাননের সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকার ও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার লেবাননের ফিউচার টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা সাদ আল হারিরি হাসানের শেষকৃত্যে ‘সবাই’কে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈরুতের আশ্রাফিয়া এলাকায় আভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা দপ্তরের প্রাঙ্গণে হাসানের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৈরুতের শহীদ চত্বর কবরস্তানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হারিরি পাশে তাকে কবর দেওয়া হবে। কবরস্তানে যাওয়া পথে লাশবাহী মিছিল শুক্রবারের বোমাহামলার স্থানটির ওপর দিয়ে যাবে।

শুক্রবার আশ্রাফিয়া এলাকায় গাড়িবোমা হামলায় হাসানসহ আরো ৭ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হন। মৃত্যুর মাত্র দুইমাস আগে একটি বোমা হামলার ষড়যন্ত্র উদঘাটন করেছিলেন হাসান। ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সিরিয়া জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।

এই বোমা হামলার জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে দায়ী করেছেন সাদ আল হারিরি। ঘটনার জন্য বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মিকাতির পদত্যাগ দাবী করেছে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ শিয়া আলাউতি গোত্রের লোক। লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক দল হেজবুল্লাহ আসাদের মিত্র। মিকাতি সরকারের হেজবুল্লাহর মন্ত্রীও আছে।

লেবাননের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ত্রিপোলির সুন্নি মুসলিম উয়িসাম আল হাসান। তার হত্যাকাণ্ডে লেবাননের সুন্নিদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই এর প্রতিবাদে পুরো লেবাননজুড়ে সুন্নিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।

নিহত হাসান ২০০৫ সালে গাড়িবোমায় নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক আল হারিরির ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। হারিরি হত্যার তদন্ত কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। হারিরি হত্যার সঙ্গে তিনি সিরিয়া ও হেজবুল্লার সম্পৃক্ততার তথ্য উদঘাটন করেছিলেন।

অগাস্টে আরেকটি বোমা হামলার ষড়যন্ত্র উদঘাটন করে তাতে সিরিয়া সরকারের জড়িত থাকার প্রমাণ দিয়েছিলেন।

হাসান হত্যার ঘটনায় লেবাননে স¤প্রদায়গত বিবাদ প্রকাশ্য রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী সিরিয়ায় শিয়া প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে প্রধানত সুন্নিদের নেতৃত্বে বিদ্রোহী লড়াই চলছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের উত্তেজনায় লেবাননের শিয়া-সুন্নিদের মধ্যে আগেই কয়েকবার বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

এ অবস্থায় ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে জর্জরিত লেবাননে আবার গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে গভীর আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

Leave a Reply