রামুতে সম্প্রীতি সমাবেশ : বৌদ্ধমন্দিরে হামলার ঘটনায় কোনো আলেম ওলামাকে দেখা যায়নি

সূত্র: কক্সবাজারের রামু উপজেলায় গত ২৯ সেপ্টেম্বরের সহিংস ঘটনার জের ধরে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল।

সমাবেশে তিনি বলেন, রামুর সহিংস ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি নিরপরাধ লোকজনকেও হয়রানি না করতে তিনি দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ হামলায় জড়িতদের মধ্যে কোনো আলেম-ওলামাকে দেখা যায়নি।


হামলাকারীরা সবাই ছিল কিশোর ও অল্প বয়সী যুবক। তাই ওইদিনের ঘটনায় কোনো আলেম-ওলামাকে হয়রানি করা হবে না। তিনি আরও বলেন, ওই একটি রাতের বিভীষিকা রামুর হাজার বছরের ঐতিহ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন করেছে। এ কলঙ্ক ভুলে গিয়ে আবারও রামুবাসীকে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়কে আন্তরিক হতে হবে।

চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুফিদুল আলম মুফিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী মো. শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, মুসরাত জাহান মুন্নী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল কালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম প্রমুখ।

সোহেল সরওয়ার কাজল রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজলের সমালোচনা করে বলেন, সংসদ সদস্য কাজল আমার বন্ধু, তিনি অতীতে কোনোদিন রামুতে সংঘটিত দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা উত্তপ্তময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেননি।

ওই রাতে তিনি রহস্যজনকভাবে এসে বক্তব্য দিয়ে চলে যান এবং এরপরই তার সঙ্গে আসা মোটরসাইকেল আরোহীরা বিভিন্ন মন্দির এবং বৌদ্ধ বসতিতে হামলাসহ অগ্নিসংযোগ শুরু করে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ওই রাতে এমপি কাজল থাকলে দু’জন মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো। সম্প্রতি প্রকাশ করা বিএনপির তদন্ত রিপোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে অতর্কিতভাবে এসে মওদুদ সাহেব ও অন্যান্য বিএনপি নেতা সঠিকভাবে তদন্ত না করে এ রিপোর্ট দিয়েছেন—যা মেনে নেয়া যায় না।

ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ ও নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কলঘর আবুবকর ছিদ্দিকী ইসলামিয়া দাখিল বালিকা মাদরাসার সুপার মাওলানা শরিফুল হক, জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইনুল ইসলাম মাতবর, মাওলানা মুহম্মদ রফিক, মৌলভী আবুল ফয়েজ, আওয়ামী লীগ নেতা রফিক আহমদ, শিক্ষক এনামুল হক, হাফেজ আহমদ, সমর বিন্দু ধর, অজান্তা বৌদ্ধবিহারের সভাপতি শশাংক বড়ুয়া, শিক্ষক আবদুল হাই, মৌলভী আনোয়ার শাহ, মাওলানা আবদুর রশিদ, হাবিব উল্লাহ, মাওলানা নুরুল হক, সুরেশ বড়ুয়া, সাংবাদিক আহমদ ছৈয়দ ফরমান, স্থানীয় সমাজসেবক শামসুল ইসলাম, হাফেজ আবদুর রহিম প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ছলিম উল্লাহ।

মানবাধিকার কমিশনের বিভাগীয় দলের ঘটনাস্থল পরিদর্শন : বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় একটি প্রতিনিধিদল শনিবার রামুর ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধপল্লী পরিদর্শন করেছে। এসময় তারা বলেন, বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ বসতিতে যারা অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তারা দেশের শত্রু এবং তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা শাখা সভাপতি লায়ন আহমেদ নবী চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদল রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহার, মৈত্রীবিহার, লাল চিং, সাদা চিং ও বড় ক্যাং রাখাইন বৌদ্ধবিহারের ভিক্ষু, বিহার কমিটির নেতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধপল্লীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবেদ আলী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এসএম আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সহ-সভাপতি মিসেস তাসলিমা হাসান, সৈয়দা কাশফিয়া নাহরিন দিশা,

অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী, মো. আবুল কালাম, অধ্যাপক হামিদুর রহমান, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ ও এহসান উল্লাহ মুকুট।

সম্প্রীতি রক্ষায় বামাকা’র মানববন্ধন : রামু, উখিয়া, টেকনাফের বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সমবেদনা জ্ঞাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিরক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল (বামাকা)। শনিবার রামু উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বামাকা’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. ফরিদ উদ্দিন ফরিদ।

এ সময় সংগঠনের রামু উপজেলা সভাপতি শফিউল্লাহ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট আ.জ.ম. মঈন উদ্দিন, মো. জুবায়ের, ছৈয়দুজ্জামান, অ্যাডভোকেট মখছুদুর রহমান, মো. হাছান আলী প্রমুখ।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

Leave a Reply