মুসলিম পরিবারে দু’টির বেশি সন্তান হলে শাস্তি দেয়া উচিত: তোগাড়িয়া

সূত্র:নয়া দিল্লি: ভারতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এ বিতর্কিত নিবন্ধ লিখেছেন।
india
প্রবীণ তোগাড়িয়া বলেছেন, ‘যদি মুসলমানরা দু’টির বেশি সন্তান জন্ম দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করে কেস চালানো উচিত এবং সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত।’তার দাবি, ওই সব মুসলিমদের চাকরি, এবং শিক্ষা সুবিধাও দেয়া যাবে না। তোগাড়িয়া বলেছেন, ‘যেসব মুসলিম পরিবার পরিকল্পনা অনুসরণ করবে না, তাদের সরকারি চাকরি দেয়া উচিত নয় এবং তার রেশন সুবিধা এবং শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত।’

তোগাড়িয়ার দাবি, যদি দু’টির বেশি সন্তান হলে শাস্তি দেয়া না হয়, তাহলে ভারত দ্রুত মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে যাবে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়ার নিবন্ধ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা মীম আফজাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে সকলের উন্নয়ন)-এর কথা বলছেন, তখন  তার সঙ্গী এ ধরণের বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছেন। তোগাড়িয়ার এ ধরণের নিবন্ধ জাতিকে বিভক্ত করবে এবং এটি জাতীয়তা বিরোধী কাজ।’ আরএসএস মুখপত্র  ‘অর্গানাইজার’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা মীম আফজাল।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া এর আগে বলেছিলেন, ‘মুসলমান জনসংখ্যা একতরফা ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে।’  তিনি বলেন, ‘হিন্দু জনসংখ্যা দ্রুত বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মুসলমানদের জনসংখ্যা পদ্ধতিগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তোগাড়িয়া বলেন, ‘১৯৫১ সালে হিন্দু জনসংখ্যার হার ৮৪ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৮০ শতাংশের নীচে চলে এসেছে। যদিও মুসলমানদের জনসংখ্যা এ সময়ে ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে।’ তিনি সারা দেশে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ চালু করার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।

তিনি এর আগে বলেছিলেন, ‘যদি এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে ভারত থেকে হিন্দু ওইভাবে সাফাই হয়ে যাবে যেরকম আফগানিস্তান এবং কাশ্মিরে হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর সাধু সম্মেলনে এই বিষয়টি তোলা হবে বলেও জানান তোগাড়িয়া। এবার জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি মুসলিমদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানালেন তোগাড়িয়া।

প্রসঙ্গত, ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আদমসুমারি রিপোর্টে প্রকাশ, ভারতের মোট জনসংখ্যা ১২১.০৯ কোটি। এরমধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬৩ কোটি। অন্যদিকে, মুসলিম জনসংখ্যা মাত্র ১৭ কোটি ২২ লক্ষ।

২০০১ সালে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ২৯.৫২ শতাংশ। ২০১১ সালে এই বৃদ্ধির হার কমে ২৪.৬০-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০০১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৯.৯২ শতাংশ। ২০১১ সালে এই বৃদ্ধির হার ১৬.৭৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে মাত্র ৩ শতাংশ।- সংবাদসংস্থা

নতুন বার্তা/এসএ
Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

মন্তব্য করুন