সূত্রঃ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চেয়েছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ মিশন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একরামুল কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নাফিসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছি। নাফিস যদি আমাদের কাছে আইনগত সহায়তা প্রার্থনা করে তাহলে তা প্রদান করা হবে।”
নাফিসের বাংলাদেশি জাতীয়তা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “নাফিসের পাসপোর্টের কপি আমাদের দেয়া হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি বাংলাদেশেরই নাগরিক। তাই তার নাগরিক অধিকারের মধ্যে যতটা প্রাপ্য ততটা সহায়তা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা সে বিষয়টি আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের উপ-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস সোয়ার্টজকে জানিয়েছি।”
পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েসও শুক্রবার রাত একটায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ‘কনস্যুলার একসেস’ চেয়েছেন বাংলাদেশে মিশনের কূটনীতিকরা।
‘কনস্যুলার একসেস’ পেলে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক নাফিসের সঙ্গে একাকী কথা বলার সুযোগ পাবেন।
ওয়াশিংটনে বিচার মন্ত্রণালয়ে দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টায়) বৈঠকটি শুরু হয়।
একরামুল কাদের বলেন, “বিচারে যদি প্রমাণিত হয় যে, নাফিস সত্যিকার অর্থেই যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা করতে চেয়েছিলেন, তাহলে আমরা তার যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব।”
বিচার বিভাগ এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদেরকে রাষ্ট্রদূত অনুরোধ করেন, ব্যাক্তি নাফিজের কারণে যেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব যেন না দেখানো হয়।
তিনি জানান, বিচার বিভাগ ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, নাফিজের কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের বিরূপ দৃষ্টিতে দেখার কোনো কারণ নেই।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, বৈঠকের পুরো রিপোর্ট হাতে পেলে কাল (শনিবার) সাংবাদিকদের সে সম্পর্কে জানানো হবে।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাফিসের জাতীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কনস্যুলার একেসেস চাওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন।
দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আগে এ রকম স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
“আমরা যদি সংবাদ সম্মেলন করতে নাও পারি, সেক্ষেত্রেও আমি অথবা পররাষ্ট্র সচিব সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে দেব”, বলেন তিনি।
বুধবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ভবনের সামনে থেকে নাফিসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও এফবিআই।
এফবিআই বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে (বাংলাদেশে বুধবার সন্ধ্যা) ম্যানহাটানে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সামনে ‘বিস্ফোরকভর্তি’ ভ্যান দাঁড় করিয়ে নাফিস পাশের মিলেনিয়াম হিল্টন হোটেলে যান। সেখান থেকে তিনি ভ্যানে রেখে আসা সেলফোনে বার বার কল দিতে থাকেন এক হাজার পাউন্ড (৪৫৪ কেজি) বিস্ফোরকে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য।
কিন্তু ভ্যানে সত্যিকারের বিস্ফোরক না থাকায় সেটি আর ফাটেনি বলে জানিয়েছে এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস (২১) নামের ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
বুধবার রাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই গ্রেপ্তারের খবর ফলাও করে প্রচার হলে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের নামও উঠে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে কাজী নাফিসের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছে, নাফিস যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। গত জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।
নাফিসের পরিবারের সদস্যদের কাউকে আটক করা না হলেও তাদের নজরদারিতে রেখেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।








