সূত্র: মিসরে প্রধান কৌঁসুলিকে তার পদ থেকে সরার নির্দেশ দিয়েও চাপের মুখে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।
এ ঘটনায় বিরাট অস্বস্তিতে পড়েছেন তিনি। মিসরের যেসব সাবেক সরকারি কর্মকর্তা গত বছর তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত জনতার ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ, তারা আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান গত শুক্রবার।
আর তার পরেই এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। আদালতের ওই রায়ের পরই প্রেসিডেন্ট মুরসি সরকারের প্রধান কৌঁসুলি আবদেল মেগুইদ মাহমুদকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ মানতে চাননি। এদিকে আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর পরই কায়রোর রাস্তায় প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়, যাতে জখম হন ১১০ জনের বেশি।
গত জুন মাসে প্রেসিডেন্ট মুরসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজধানীতে এতো বড় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ আর হয়নি। বিক্ষোভকারীদের প্রচুর ইটপাটকেল, শিশি-বোতল ও পেট্রোল বোমাও ছুড়তে দেখা যায়।
মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি জনসভায় প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থকদের নিয়ে যাচ্ছিল দুটি বাস। সেখানে থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে প্রধান কৌঁসুলি শনিবার আবার কাজে যোগ দিতে আসেন এবং জানিয়ে দেন তিনি তার পদ থেকে সরবেন না।
তিনি বলেন, ‘যেমনটা আমি এরই মধ্যে বলেছি এবং মুসলিম ব্রাদারহুড থেকে শুরু করে সবার উদ্দেশেই আমি বলছি, আমাকে এসব করে টলানো যাবে না।’ প্রধান কৌঁসুলি ঘোষণা করেন, ‘প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি আমি আমার পদের মর্যাদা রক্ষা করবই। প্রধান কৌঁসুলির পদের যে স্বাধীনতা সেটা রক্ষা করবই। আমাকে হত্যা করার আগে এই পদ থেকে কিছুতেই সরানো যাবে না!’
প্রধান কৌঁসুলি যে বিষয়টা বলতে চাইছেন তা হলো দেশের সংবিধান তাকে তার পুরো মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার অধিকার দিয়েছে, তার আগে কেউ তাকে সরাতে পারবে না। এই যুক্তিটা অনুধাবন করার পরই সম্ভবত প্রেসিডেন্ট মুরসি তার সুর নরম করে ফেলেন, একজন ভাইস প্রেসিডেন্টকে তিনি পাঠান প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে রফা করার জন্য।
এরপরই ঘোষণা করা হয় প্রধান কৌঁসুলিকে বরখাস্ত করার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও বড় অস্বস্তি থেকে রক্ষা পেতেই প্রেসিডেন্ট আপসের এ রাস্তা বেছে নিলেন।
প্রেসিডেন্ট মুরসির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কারণ, অনেক প্রতিশ্রুতিই তিনি রক্ষা করতে পারেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে কায়রোর কুখ্যাত যানজট নিরসনের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সে কাজে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।








