পাঁচ ব্রিটিশ সেনার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ : কান্দাহারে আত্মঘাতী হামলা ও বোমা হামলায় ২ ন্যাটো সেনাসহ নিহত ৯

সূত্র: আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে আত্মঘাতী হামলা ও বোমা বিস্ফোরণে কোয়ালিশন ফোর্সের দুই সদস্যসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। আইএসএফ এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা এ খবর জানান। কর্মকর্তারা জানান, কান্দাহার প্রদেশের মারুফ জেলায় বিদেশি সৈন্যের একটি গ্রুপ এবং আফগান গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আত্মঘাতী হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল।

এর আগে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা পুলিশের গাড়িতে আঘাত হানলে দুই পুলিশ নিহত এবং তিনজন আহত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে সহিংসতা খুব বেড়েছে।


তালেবান জঙ্গিরা আফগান ও ন্যাটো নেতৃত্বাধীন সৈন্যদের ওপর হামলা তীব্রতর করেছে। তালেবান হামলায় বেসামরিক আফগানরাও হতাহত হচ্ছে। শুক্রবার গোলযোগপূর্ণ হেলমান্দ প্রদেশের কাজাকি জেলায় বোমার ওপর পা রাখার পরপরই এক বালক নিহত হয় এবং ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে আহত হয়।

প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, শিশু দুটি তাদের ভেড়াকে ঘাস খাওয়াচ্ছিল। আফগান কর্মকর্তা একে সশস্ত্র সন্ত্রাস বলে অভিহিত করেন। আইএসএফ জানায়, আত্মঘাতী হামলায় কান্দাহারে মিত্র জোটের অনেক বেসামরিক সদস্য এবং আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

কান্দাহারের প্রাদেশিক মুখপাত্র জানান, হামলাকারী হেঁটে এসে তার শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ন্যাটো এবং আফগান বাহিনীর সদস্যরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় চেকপয়েন্টে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তালেবান এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। তাদের মুখপাত্র কস্ফারি ইউসুফ আহমাদি দাবি করেছেন, ওই হামলায় ৬ বিদেশি সেনা এবং আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১১ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন পাঁচ রাজকীয় মেরিন সেনা। রয়েল মিলিটারি পুলিশ দুই মেরিন সেনাকে আটক করেছে। তাদের নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯। এদের মধ্যে ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে, শুনানির জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ওই পাঁচজনের মামলা সার্ভিস প্রসিকিউটিং অথরিটির (এসপিএ) কাছে পাঠানো হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষ সামরিক বাহিনীর সৌজন্যে মামলার শুনানি পরিচালনা করে।

এসপিএ এই বিচার সামরিক আদালতে হবে কিনা, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আফগানিস্তান সংঘাতের সময় এই প্রথম যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

Leave a Reply