সূত্রঃ নিজেদের খেয়াল-খুশিমত মিলাদ না পড়ানোয় এক ইমামকে অপহরণ করে তার দাড়ি কেটে দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডাররা। শুধু তা-ই নয়, ওই ইমামকে নগ্ন করে মোবাইলে তার ভিডিও করে রাখা হয়েছে। বর্বর এ ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকার সব স্তরের জনতা গতকাল প্রতিবাদ সভা করে দায়ী সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, গত ১২ অক্টোবর লোহাগাছিয়া দক্ষিণপাড়া বায়তুন নুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ইব্রাহিম খলিল বাড়ি থেকে তার কর্মস্থল লোহাগাছিয়া বাজারের মসজিদে আসার সময় অপহৃত হন। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির শ্রীপুর থানায় সেদিনই সাধারণ ডায়েরি (নং-৬৬২) করেন।
গতকাল এলাকাবাসী তার অবস্থান জানতে পেরে শ্রীপুর পৌর এলাকায় বেড়াইদের চালা গ্রামের আনোয়ারা বেগমের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করেন। ইব্রাহিম খলিল জানান, লোহাগাছিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শাহীন, বরকত উল্লার ছেলে মফিজুল, হাবিবুর এবং পুতাবাড়ী গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন তাকে অপহরণ করে ওই বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রেখে দাড়ি কেটে ফেলে। পরে বিবস্ত্র করে তা মোবাইলে ভিডিও করে তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। অপহরণকারী সবাই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির
সঙ্গে জড়িত।
খলিল আরও জানান, কিছুদিন আগে মসজিদে দাঁড়িয়ে ও বসে মিলাদ পড়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর একপক্ষে ছিল ওই ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডাররা। তারা সমাজের গণ্যমান্যদের মত পাল্টে খলিলকে তাদের কথামত মিলাদ পড়াতে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু তিনি তাদের কথায় কান না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পরে অপহরণ করে।
শ্রীপুর থানা ওসি আক্তারুজ্জামান পিপিএম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে।এদিকে গতকাল এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। বিকাল ৫টার সময় শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের লোহাগাছিয়া বাজারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ সভা করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শামসুল হকের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন আলহাজ খালেকুজ্জামান, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির, মুফতি মাওলানা আলী হায়দার, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা সুলতান উদ্দিন নূরী, হাফেজ হেলাল উদ্দিন, মাওলানা শাহ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান।








