নিউইয়র্কে বিষ্ময়, নিহত ভারতীয় নাগরিকের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট!

সূত্র: নিউইয়র্কে ‘ভারতীয় নাগরিক’ সুনন্দ সেন নিহত হওয়ার ঘটনার পর তা এখন ট পর তা এখন টক অব দ্য সিটিতে পরিণত হয়েছে। এদিকে মৃত্যুর পর সুনন্দর নাগরিকত্ব নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। মৃত্যুর সময় তার হাতে পাওয়া যায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট। কিন্তু সুনন্দের মরদেহ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় দূতাবাস। তার সৎকারেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে তা হচ্ছে- একজন ভারতী নাগরিকের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাচ্ছে কিভাবে? আর সে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম।
নিউইয়র্কে বিষ্ময়, নিহত ভারতীয় নাগরিকের হাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট
অভিযোগ রয়েছে, দিন কয়েক আগে সুনন্দ সেন নামে এই বাঙালিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত ট্রেনের নীচে ফেলে হত্যা করেছেন এরিকা ম্যান্ডেজ নামের এক নারী। নিউইয়র্কের সানি সাইডে ৪০ স্ট্রিটের ট্রেন স্টেশনেই ঘটে ওই ঘটনা। নিউইয়র্ক টাইমসসহ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো সুনন্দ সেনকে ভারতে বেড়ে ওঠা যুবক হিসেবে বললেও তার কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে উল্লেখ করে। পত্রিকাগুলোতে তার পাসপোর্ট থেকে পাওয়া ছবিও ছাপা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস নামক অন লাাইন কাগজে প্রতিবেদক পলাশ আর ঘোষ তার প্রতিবেদনে সুনন্দ সেন কে একজন ভারতীয় হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। আর এসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিতর্ক উঠেছে।

নিউইয়র্কে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এব্যাপারে সাফ বলে দিয়েছেন, ”সুনন্দ সেন ভারতীয় নাগরিক।” তিনি বলেন, “আমাদের রেকর্ডে সুনন্দ সেন নামে কোন ব্যক্তি নেই। তাছাড়া ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেছি। ভারতীয় কনসাল জেনারেলও পরিস্কার জানিয়েছেন, সুনন্দ সেন তাদেরই নাগরিক ।” মরদেহ গ্রহণ ও দেশে পাঠাতে ভারতীয় দূতাবাস প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও ভারতীয় কনসাল জেনারেলকে উদ্ধৃত করে বাংলানিউজকে জানান বাংলাদেশি কনসাল জেনারেল মনিরুল।

ভারতে সুনন্দ সেন এর বাড়ী কোথায় এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম বলেন, ”যিনি বাংলাদেশি নাগরিকই নন, তার বাড়ী ও ঠিকানা কোথায় তা জানার কোন প্রয়োজন মনে করিনি।”

তবে সুনন্দ সেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট কিভাবে বহন করছিলেন তা নিয়ে উদ্বেগ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেন এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ খতিয়ে দেখা, কোথা থেকে সুনন্দ সেন বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছেন,” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য হতভাগ্য সুনন্দ সেনের মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি মানবিক দিক থেকে বেদনাহত হলেও সুনন্দ সেন একজন বাংলাদেশী কিনা তা নিশ্চিত না হয়ে অশ্রুসিক্ত হতে পারেনি। তবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি আঞ্চলিক সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে সুনন্দ সেনকে তাদের এক সদস্যের আত্মীয় পরিচয়ে শোক প্রকাশ করা হয়েছে । নিউইয়র্ক টাইমসসহ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো থেকে জানাগেছে, সুনন্দ সেন এ মা বাবা আগেই পরলোকগত হয়েছেন। তাছাড়া নিউইয়র্কে তার কোন আত্মীয় স্বজনও কেউ নেই ।

হতভাগ্য এই সুনন্দ সেন আসলে কে? ভারতীয় নাকি বাংলাদেশি এ প্রশ্নে কমিউনিটিতে নানান বিতর্ক রাজনৈতিক রঙ ছড়াচ্ছে। এমন অভিযোগ উঠে এসেছে যে, ঢাকা থেকে সংখ্যালঘুদের ভিসা পাওয়া তুলনামূলক অনেক সহজ। তাই ভারতীয় এবং বাংলাদেশীদের ভারতীয় আত্মীয়রা গোপনে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিচ্ছেন। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করছেন । এবং যুক্তরাষ্ট্রে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের সামাজিক সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র বিশেষ সহায়ক হচ্ছে। আর তাই সংগঠনের ’প্রত্যয়নপত্র’ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় সামাজিক সংগঠনের বিভক্তিতে বড় ভুমিকা রাখছে ।

বাংলাদেশের প্রশাসনের দুর্নীতি ও উদাসীনতায় ভিনদেশি নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশি পাসপোট যাওয়ার এধরনের খবরের বিতর্ক কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিদেশে রোহিংগাদের হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনার সাথে এঘটনা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে নতুন করে।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

মন্তব্য করুন