
সূত্র: নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের বিরুদ্ধে মামলা চলবে কি না সে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যে অভিযোগপত্র গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডারেল কোর্টের মুখপাত্র রবার্ট নারডোজা শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নাফিস দোষী না নির্দোষ- তা বলার পর্যায় এখনও আসেনি। গ্র্যান্ড জুরি যদি নাফিসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ গঠনের মতামত দেয়, তাহলে মামলার শুনানি শুরু হবে এবং নাফিসের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। সে সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি অথবা দোষ স্বীকার করতে পারেন।”
নিউইয়র্কের মানবাধিকার আইনজীবী অশোক কর্মকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এখনকার দিনে সাধারণত চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোই ১২ সদস্যের গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়। নাফিসের বিরুদ্ধে মামলাটি এই সময়ের অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি মামলা।
“তবে এই গ্র্যান্ড জুরি বোর্ড কেবল তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনবেন এবং তার দেয়া নথিপত্রই দেখবেন। এর ভিত্তিতে তারা জানাবেন, এই মামলা চালানো হবে কি না। এ ক্ষেত্রে আসামির বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না থাকলেও একটি মামলার ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে গ্র্যান্ড জুরি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
গত ১৭ অক্টোবর কথিত ‘স্টিং অপারেশনের’ মাধ্যমে নাফিসকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও এফবিআই বলেছে, এই বাংলাদেশি যুবক ফেডারেল রিজার্ভ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার ভ্যানে সত্যিকারের বিস্ফোরক না থাকায় সেটি আর ফাটেনি।
২১ বছর বয়সী নাফিসের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
নাফিসকে বর্তমানে রাখা হয়েছে ব্রুকলিনের কারাগারে। তার মামলার পরবর্তী তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্র্যান্ড জুরির মতামতের ভিত্তিতে মামলার শুনানির তারিখ ধার্য করা হবে।
রবার্ট নারডোজা বলেন, “নাফিসকে জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে নাফিস যদি সত্যিকার অর্থে দোষ করে থাকে তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নাফিস যদি ষড়যন্ত্রের শিকার হয় তাহলে তার মুক্তি চেয়ে রোববার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৪টা) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে মানববন্ধন করবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।








