সূত্র: রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের বহু প্রতীক্ষিত থ্রিজি (থার্ড জেনারেশন) মোবাইল ফোন সেবা চালুর মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

টেলিটকের থ্রিজি মোবাইল ফোন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মোবাইল টেলিফোন খাতে থ্রিজি’র সংযোজন করে বাংলাদেশ এক নতুন মাইলফলক স্থাপনের মাধ্যমে এ প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর স্তরে উন্নীত হলো।
উদ্বোধনকালে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এতে মোবাইল টেলিফোনে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যাবে এবং তথ্য ও ডাটা আদান-প্রদান দ্রুত ও সহজ হবে। মোবাইল টেলিফোন গ্রাহকরা ভিডিও কল করাসহ উন্নত ডিজিটাল সেবা পাবেন। তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিভিন্নমুখী প্রয়োগ নিশ্চিত হবে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ সজিব ওয়াজেদ জয়, ডাক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোস ও বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি’ই পারে উন্নয়নের বহুমাত্রিক ধারা দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। জনগণকে বিশ্বের সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করতে।
আইসিটি’র এ বিশাল সামর্থ্যকে নিজের করে নিতে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, নতুন এ সংযোজন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প ও সেবার বিকাশ ঘটার পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতসহ সব ক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
যা তথ্য-প্রযুক্তির রফতানি বৃদ্ধি ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত হবে। এসব লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম তথ্য প্রযুক্তি রপ্ত করেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক নিয়ে ই-বুক তৈরি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে নিম্ন মাধ্যমিকেও কম্পিউটার শিক্ষা চালু করা হবে।
এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে প্রায় তিন হাজার আইটি ল্যাব ও দুর্গম অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আইটি ল্যাব স্থাপন ও যেখানে বিদ্যুত্ নেই সেখানে সোলার এনার্জির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইসিটিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ চলছে।
সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ড-উইডথ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি ও ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগে নিজস্ব সামর্থ্য অর্জনে দেশে প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইট স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, থ্রিজি লাইসেন্স পলিসি চূড়ান্ত হচ্ছে এবং অন্য মোবাইল ফোন অপারেটররাও শিগগিরই অকসনের মাধ্যমে থ্রিজি লাইসেন্স পাবে। পরে প্রধানমন্ত্রী বোতাম টিপে টেলিটক থ্রিজি প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন।
তিনি এই নতুন সংযোজিত প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিফোনে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেলিফোনে আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন।








