জয় দিয়ে শেষ করতে চায় বাংলাদেশ

সূত্র: টেস্ট ও একদিনের সিরিজে হারলেও জয় দিয়ে জিম্বাবুয়ে সফর শেষ করতে চায় বাংলাদেশ।

চতুর্থ ম্যাচ জিতলেও পাঁচ ম্যাচের একদিনের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বুলাওয়েতে রোববার পঞ্চম ও শেষ একদিনের ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।

খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায়।

সিরিজ হারলেও স্বরূপে ফেরার আভাস তৃতীয় ম্যাচেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। আর চতুর্থ ম্যাচে নিজেদের ফিরে পেয়েই স্বাগতিকদের গুড়িয়ে দিয়েছে তারা।

অনেক দেরিতে ফিরলেও সফরে কোনো ম্যাচে না জেতার শঙ্কা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এবার শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে ব্যবধান আরেকটু কমাতে চায় তারা।

প্রথম ম্যাচেও ৪ উইকেট নিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। সেবার দল হারলেও চতুর্থ ম্যাচে নেয়া ৪ উইকেট তাকে রেখেছে জয়ী দলেই। নিজের ছোট ক্যারিয়ারে ৪ উইকেট নেয়ার অভ্যাস গড়ে ফেলেছেন তিনি। শুরুর দিকে অত কার্যকর না হলেও পুরনো বলে ঝলক দেখান মাঝে মধ্যেই।

তার একার কাছেই বুলাওয়েতে হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। ভালো অবস্থানে থেকেও তার ছোট এক স্পেলে গুড়িয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ভালো কিছু করার স্বপ্ন। নতুন বলের সঙ্গী শফিউল ইসলামের কাছ থেকে বেশ সহায়তাও পাচ্ছেন তিনি।

হারারেতে ভালো না করলেও বুলাওয়েতে বাংলাদেশের তিন স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসন ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ নিজেদের অনেকটাই ফিরে পেয়েছেন।

নাসির হোসেন ও শুভাগত হোম চৌধুরীকে কয়েক ওভার করে বল করিয়ে নেয়ায় বোলিংয়ে বৈচিত্রও আসছে।

মুশফিকুর রহীম চলতি সিরিজে সফরকারীদের প্রধান ব্যাটিং ভরসা। এরই মধ্যে একটি করে শতক ও অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন তিনি। তবে অন্য প্রান্ত থেকে সেভাবে কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস নিজের ছায়া হয়ে আছেন এ পর্যন্ত। চতুর্থ ম্যাচে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিলেও, ছোট ওই ইনিংসেই দুবার জীবন পান তিনি। শাহরিয়ার নাফীসের বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচেই ব্যর্থ জুনায়েদ সিদ্দিক।

অভিষেকেই ৩২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে শুভাগত বুঝিয়ে দিয়েছেন থাকতেই এসেছেন তিনি। সে যাত্রায় রান আউট হওয়ায় দলকে বিপদে ফেলে দিলেও পরের ম্যাচে কিন্তু দলকে জয় এনে দিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

প্রথম ম্যাচে ভালো করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই খেই হারিয়েছেন নাসির হোসেন। সাকিব শুরু করলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারছেন না। তবে চতুর্থ ম্যাচে রানের জন্য খুব বেশি ছটফট না করে স্বাভাবিক খেলা খেলে দলকে বড় জয় এনে দেন তিনি। অনেক প্রত্যাশা থাকলেও সফরকারীদের হতাশ করেছেন রিয়াদ।

টানা তিন ম্যাচ জিতে হাওয়ায় উড়তে থাকা জিম্বাবুয়ে চতুর্থ ম্যাচে হেরে পা রেখেছে মাটিতে। বুলাওয়েতে তাদের বিপক্ষে অনেকটা ‘ঘরের সুবিধা’ পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এখানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ৫টিতে।

বুলাওয়েতে ফেভারিট বাংলাদেশই। তবে জিম্বাবুয়ের সিরিজ জয়ের বড় অস্ত্র ব্রায়ান ভিতোরি গত ম্যাচ না খেলায় জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে সে অর্থে কোনো পরীক্ষায় পড়তে হয়নি সফরকারীদের। তিনি খেললে বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তাকে কী করে সামলান তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।

ভালো বল করছেন ক্রিস্টোফার এমপুফো ও এল্টন চিগুম্বুরা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে রে প্রাইস ও প্রসপার উৎসেয়ারও অনেক সাফল্য রয়েছে।

চতুর্থ ম্যাচে হার এড়াতে না পারলেও শতক হাঁকিয়ে ছন্দে ফেরার প্রমাণ দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। দলের ১৯৯ রানের মধ্যে ১০৬ রানই আসে তার ব্যাট থেকে।

পুরো সিরিজে ভালো ব্যাট করেছেন ভুসি সিবান্দা, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও তাতেন্দা তাইবু। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেটে এই তিন ব্যাটসম্যান দলকে শক্ত ভিত গড়ে দিচ্ছেন। জিততে হলে এই ত্রয়ীকে দ্রুত ফেরাতে হবে সফরকারী বোলারদের।

এ পর্যন্ত জিম্বাবুয়েতে পাঁচটি একদিনের সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০০-০১ মৌসুমে প্রথম জিম্বাবুয়ে সফরে ৩ ম্য্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজেদের দ্বিতীয় সফরে ৫ ম্যাচের সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে। হার মানতে হয় তৃতীয় সিরিজেও। ২০০৬ সালে ৫ ম্যাচের সিরিজ হারে ৩-২ ব্যবধানে।

কিন্তু ২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজেদের চতুর্থ সফরে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জেতে সফরকারীরা। ২০০৯ সালে ৪ ম্যাচের সিরিজও জিতে নেয় ৩-১ ব্য্যবধানে।

জিম্বাবুয়েতে এ পর্যন্ত ২৪টি ম্যাচ খেলেছে দল দুটি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে জিতেছে ১৪টিতে আর বাংলাদেশের জয় ১০ ম্যাচে।

সব মিলিয়ে দু দল খেলেছে ৫৫টি ম্যাচ। এতে বাংলাদেশের জয় ২৯ খেলায় অন্য দিকে জিম্বাবুয়ের জয় ২৬ খেলায়।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

মন্তব্য করুন