সূত্র: জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে শত শত আফগান সেনাকে আটক অথবা বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
বিদেশি সেনাদের ওপর আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
চলতি বছর আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হামলায় ন্যাটোর ৪৫ সেনা নিহত হওয়ায় ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেজ ফগ রাসমুসেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আফগান সরকার নিরাপত্তা বাহিনীতে নিয়োগকৃতদের কাগজপত্র পুনরায় পরীক্ষায়র উদ্যোগ গ্রহণ করে। যাচাই-বাছাই শেষে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে আফগান বাহিনীর শত শত সেনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জহির আজিমি কাবুলে সাংবাদিকদের বলেন, “জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় শত শত সেনা সদস্যকে বরখাস্ত অথবা আটক করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে আর বাকিদের ক্ষেত্রে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
আজিমি আরো বলেন, “সেনা পোশাক ব্যবহার করে বিদেশি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালানো একটি গুরুতর পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে। তবে এটা শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগের বিষয় নয়, আফগান সরকারের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”
তবে তালেবানের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চল থেকে আসা সেনাদেরই আটক কিংবা বরখাস্ত করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আজিমি বলেন, তাদের সারা দেশ থেকেই আনা হয়েছে।
আফগানিস্তানে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ল্যাফটেনান্ট জেনারেল জেমস টেরি পেন্টাগন বিটের সাংবাদিকদের বলেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাড়ে ৩ লাখ সদস্যের তথ্যাদি দুই স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সময় লাগবে। তবে এতে করে ন্যাটোর অভিযান ও কার্যক্রম স্তিমিত হবে না।
ন্যাটো সেনাদের ওপর এই অভ্যন্তরীণ হামলার জন্য টেরি আফগানদের ‘বন্দুক সংস্কৃতি’ কেও দায়ী করেছেন।
চলতি সপ্তায় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব রাসমুসেন জানিয়ে দিয়েছেন, আফগান বাহিনীর ছদ্মবেশী হামলাকারীদের হামলা চালালেও ন্যাটো নির্ধারিত সময়ের আগে আফগানিস্তান ছেড়ে আসবে না।
অভ্যন্তরীণ হামলার কারণে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী আফগান সেনা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে।








