চারঘাট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ : লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের মহড়া

সূত্র: রাজশাহীর চারঘাট সীমান্ত থেকে চার বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। গত শুক্রবার দুপুরে ইউসুফপুর সীমান্ত এলাকার পদ্মারচর থেকে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরা হলেন সাইদুল মুন্সী, তাজমুল ইসলাম, রান্টু মিয়া ও রাকিবুল ইসলাম। তাদের বাড়ি উপজেলার জাফরপুর এলাকায়।

ইউসুফপুর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার হোসেন আলী জানান, শুক্রবার দুপুরে পদ্মা নদীতে খড় কাটতে গেলে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে ওইদিন বিকালেই বিএসএফের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।


শনিবার ভারতীয় সীমানার ৬৮/১ নম্বর পিলারের কাছে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন বিএসএফের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় গতকাল পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়ে ৪ বাংলাদেশীকে ফেরত দেয়ার দাবি জানায়। এ ব্যাপারে বিএসএফ একমত হলেও তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের ফেরত দেয়নি।

সূত্রমতে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের ফেরত দেবে বিএসএফ।লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের মহড়া : লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, শনিবার থেকে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা, ঈদ ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছে।

এমন খবরের ভিত্তিতে লালমনিরহাট সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের সীমান্তসংলগ্ন পাকা সড়কে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে বলে সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আকস্মিক এ তত্পরতা বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বাত্রিগাছ ও কিশামত বাত্রিগাছ নামের এ দুটি ছিটমহলের প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশী ছিটমহলবাসী আতঙ্কে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সীমান্তের প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সীমান্তের ওপারে বিএসএফ সদস্যরা তাদের টহল আগের তুলনায় বৃদ্ধি করে ভারি অস্ত্র ও গাড়ি নিয়ে পাকা সড়কে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে।

বিএসএফ তাঁবু টাঙিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করেছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও মোগলহাট সীমান্তে।

এদিকে সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা বন্ধে দফায় দফায় দেয়া ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতি কোনো কাজেই না আসায় আবারও নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মূল-ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এসব অসহায় ছিটমহলবাসীর মধ্যে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর খামখেয়ালি গুলিতে নিরীহ অসহায় বাংলাদেশীর প্রাণ হারানোর ঘটনা যেন অমোঘ নিয়মেই পরিণত হয়েছে। এ কারণে সীমান্তবাসীরা বিএসএফের হাতে ভারি অস্ত্রশস্ত্র দেখলেই প্রাণভয়ে ঘরের বাইরে যান না।

বিএসএফের অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করার পর কুকুর-বিড়ালের মতো টেনে-হিঁচড়ে সীমান্তেরই কোনো এক স্থানে তাদের লাশ ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে তারা।

আবার কখনও কখনও হতভাগ্য বাংলাদেশীর লাশ ভাসিয়ে দিচ্ছে সীমান্তের কোনো এক নদীতে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে নিহতদের অধিকাংশই সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের গরিব কৃষক, রাখাল ও গরু ব্যবসায়ী।

বিএসএফের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনে এখন যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। বিএসএফ এখন আর শুধু গুলি নয়, পাথর ছুঁড়েও মারছে নিরীহ বাংলাদেশীদের।

আদিতমারী উপজেলার বাত্রিগাছ ছিটমহলের অধিবাসী ও পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তের মফিজ উদ্দিন জানান, সীমান্তের ওপারে বিএসএফ সদস্যরা আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ২৪ ঘণ্টা ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকার জমিতে চাষাবাদ, গরু-ছাগল চরানো এবং নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনে যেতে পারছেন না তারা।

পাথর উত্তোলন করতে গেলেই সীমান্তে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) রাইফেল তাক করে গুলি করতে উদ্যত হয়। সীমান্তে জিরো লাইন ও তার আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশী কাউকে ঘোরাফেরা করতে দেখলেই বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এ কারণে প্রাণের মায়ায় তারা সীমান্ত এলাকায় অবাধ চলাচল করতে পারছেন না বলে তারা অভিযোগ করে জানান।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গুলি করে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, গ্রেফতার, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও বাংলাদেশী গরু ধরে নিয়ে যাওয়াসহ বিএসএফের আগ্রাসী তত্পরতার মুখে গোটা সীমান্ত পল্লী এলাকার মানুষের মাঝে বিএসএফ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিএসএফের আগ্রাসী তত্পরতা বন্ধ, বাংলাদেশী হত্যার ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করে পতাকা বৈঠক করেছে। একই সঙ্গে নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

কিন্তু বিএসএফের নির্দয় হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি এখনও। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কথা রাখছে না ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

Leave a Reply