চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়েছে : প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠন

সূত্রঃ চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ১৩০ ফুট দীর্ঘ একটি কংক্রিটের গার্ডার ভেঙে পড়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার সামনে কর্ণফুলী সংযোগ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দু’সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম নামে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন। গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিডিএ’র পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা।


দুর্ঘটনার সময় জুমার নামাজ চলার কারণে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিকট শব্দের কারণে মসজিদের মুসল্লিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনা শুনে শত শত উত্সুক জনতা দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১টা ২৫-এর দিকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে একটি গার্ডার হঠাত্ করে বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে। ওই সময় রিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলম দুই আরোহীকে নিয়ে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিকট শব্দ শুনে তিনি রিকশা ফেলে রাস্তার একপাশে চলে যান এবং আরোহীরা দ্রুত নেমে রাস্তার পাশে লাফ দেন। ধসেপড়া গার্ডারটি ১৩০ ফুট দীর্ঘ। দুর্ঘটনা ঘটার ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সিডিএ’র কোনো কর্মকর্তা এবং ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে আসেননি। সিডিএ চেয়ারম্যানকে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদার শফিউল আলম বলেন, আমি দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাত্ দেখি গার্ডারটি ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গার্ডারটি যে স্থানে ধসে পড়েছে, সেখানে সব সময় যানজট লেগে থাকে।

আল্লাহর রহমত যে, শুক্রবার এবং নামাজের সময়ের কারণে কোনো যানবাহন ছিল না। স্বাভাবিক সময় হলে এ দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানি ঘটতে পারত। একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন চান্দগাঁও থানার ওসি বাবুল চন্দ্র ভৌমিক।

গার্ডার ধসে পড়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া জানান, ক্রস গার্ডার না থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ক্রস গার্ডার না দেয়া পর্যন্ত গার্ডারগুলো নিরাপদ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে জনমনে বিশেষ করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অনিয়মের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তারা অভিযোগ করেছেন, ফ্লাইওভার নির্মাণকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ কর্মকর্তাদের ফ্লাইওভার নির্মাণে অনিয়মের কারণে কর্মরত এক ইঞ্জিনিয়ার এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এ সময় তারা এ ধরনের ফ্লাইওভার করার চেয়ে না করাই ভালো বলে মন্তব্য করেন।

এ প্রকল্পে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইঞ্জিনিয়ার প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি স্থাপনা নির্মাণে যে ধরনের নির্মাণসামগ্রী এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করার কথা, এখানে তার তুলনায় খুবই কম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়া এখানে যারা নমুনা পরীক্ষা করেন, তারাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লোক বলে জানান তিনি। যার কারণে কেমিক্যালের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করলেও তারা কখনও কিছুই বলেন না।

দুর্ঘটনার কারণ ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমান নিজেকে প্রধান করে দু’সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানিয়েছেন হাবিবুর রহমান।

এদিকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সিডিএ পরিচালনা পরিষদের সদস্য মফিজুর রহমান গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমান এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এদের অনিয়মের কারণেই গার্ডার ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, সিডিএ’র তত্ত্বাবধানে ১০৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। পারিশা এন্টারপ্রাইজ ও মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণ কাজ করছে। চলতি বছর এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

মন্তব্য করুন