এডিপিতে ১০ পিপিপি প্রকল্প

সূত্র:
আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ১০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে।

বিভিন্ন সময়ে এ প্রকল্পগুলোর কথা বলা হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এবার এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে পিপিপির আওতায় এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত


শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার যে এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাতে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্প ১০টির মধ্যে পরিবহন খাতের প্রকল্প চারটি- ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক), পাটুরিয়া-গোয়ালন্দে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ।

রেল খাতের তিনটি প্রকল্প হচ্ছে- বঙ্গবন্ধু সেতুতে ডুয়াল গেজবিশিষ্ট ডাবল লাইন নির্মাণ, দোহাজারী-কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন (সব সেতু বিজিএমএল স্ট্যান্ডার্ড) নির্মাণ এবং ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ ঘাট (বিজিএমএল স্ট্যান্ডার্ড) পর্যন্ত রেল সেতু নির্মাণ।

তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের তিনটি প্রকল্প হচ্ছে – টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় এলপিজি সিলিন্ডার অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাচারিং প্ল্যান্ট নির্মাণ, চট্টগ্রামের কুমিরায় ১ লাখ মেট্রিক টন ক্ষমতার এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট ইনক্লুডিং ইম্পোর্ট ফ্যাসিলিটিজ, স্টোরেজ ট্যাংকস, পাইপলাইন ও জেটি নির্মাণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন (বিএমআরই)।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ কথা ঠিক যে, গত তিন বছরে আমরা পিপিপি উদ্যোগ তেমন কার্যকর করতে পারিনি। এবার এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা পিপিপি উদ্যোগে গতি আনতে চাই।”

“আশা করছি, আগামী অর্থবছর থেকে পিপিপির কাজ পুরোপুরি শুরু হবে,” বলেন মুহিত।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিপিপি উদ্যোগে বড় বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে পরপর তিন অর্থবছর বরাদ্দের কোনো টাকাই ব্যয় হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পিপিপির আওতায় সব প্রকল্পে সরকার টাকা দেবে না। তবে বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ভর্তুকি দেবে সরকার।

“ভর্তুকি কীভাবে দেওয়া হবে, কোন প্রকল্পে দেওয়া হবে, সে জন্য ভায়াবল গ্যাপ ফান্ড (ভিজিএফ) নামে আলাদা একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় থাকবে,” বলেন ওই কর্মকর্তা।

পিপিপি খাতে আগামী বাজেটে আলাদা কোনো থোক বরাদ্দ থাকবে না। তবে ভর্তুকি দিতে ভিজিএফ তহবিলে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, সরকার শুধু উড়াল সড়ক প্রকল্পে ভর্তুকি দেবে। এর পরিমাণ হবে মোট প্রকল্প ব্যয়ের শতকরা ২৭ ভাগ। এ হিসাবে উড়াল সড়ক প্রকল্পে ভর্তুকি বাবদ খরচ হবে ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এ টাকা একসঙ্গে দেওয়া হবে না। পুরো নির্মাণ মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় ভিজিএফ ফান্ড থেকে প্রকল্পের ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পিপিপির আওতায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে সর্বোচ্চ ৪০ ভাগ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়।

ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে (২০০৯-১০ অর্থবছর) বাজেটে পিপিপির ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বিনিয়োগ সম্পর্কিত একটি নির্দেশিকা তৈরি করতেই দেড় বছর কেটে যায়। পিপিপির জন্য পৃথক অফিস ও একজন সিইও নিয়োগ করতে লাগে দু’বছর। পিপিপি অফিসে পুরোপুরি জনবল নিয়োগ এখনো হয়নি।

Share and Enjoy:
  • Print
  • Digg
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Yahoo! Buzz
  • Twitter
  • Google Buzz
  • LinkedIn

মন্তব্য করুন